TadantaChitra.Com | logo

২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান নকশী বন্দি‘র শেল্টারের কান্তার নারী ব্যবসা!

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৬, ২০২১, ১৬:৫৫

ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান নকশী বন্দি‘র শেল্টারের কান্তার নারী ব্যবসা!

স্টাফ রিপোর্টার: মন্ত্রী, এমপি সহ বিভিন্ন রাজতৈনিক লোকজনের সাথে ছবি তুলে তা আবার নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেন। তিনি নিজেকে সাধারন মানুষের কাছে এমন ভাবে উপস্থাপন করতে চান যে, তিনি অনেক উচ্চ মহলের একজন। নাম তার জাবিন সুলতানা কান্তা। বিভিন্ন মহলে তাকে নারী সাপ্লাইয়ার কান্তা হিসেবেই চিনেন। উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির ছবিই তার এখন একমাত্র সম্বল। এগুলোকে পুজিঁ করেই তিনি চলছেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে। ব্যবহার করেন সরকারী গাড়ী। এি গাড়ীতে চলাফেরার মধ্যে দিয়েই বিভিন্ন স্থানে দাবী করেন তিনিও সরকারের লোক। যদি প্রশাসন জানেন না তার প্রতারণার গল্পকাহিনী। এই সরকারী গাড়ী কিভাবে, কার কাছ থেকে ম্যানেজ করেছেন কান্তা। সত্যিই রহস্যময় এক কান্তার জীবন। বহুকর্মের নায়কও তিনি। জীবনের প্রথম ধাপই শুরু হয় প্রতারণা দিয়ে। সেই থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কান্তার।

ঘটকালি ব্যবসার আড়ালে রাজধানীজুড়ে চলছে জমজমাট প্রতারণা বাণিজ্য ও দেহ ব্যবসা। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক ম্যারেজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। বেকার সমস্যা এবং দারিদ্রকে পুঁজি করে এসব প্রতিষ্ঠান বিয়ের মতো সামাজিক ও পবিত্র একটি বিষয়কে নিয়ে প্রতারণা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। রাজধানীর অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনেক ম্যারেজ মিডিয়াই বর্তমানে এমন প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। আর তাতে প্রতারিত হচ্ছেন বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজতে আসা ক্লায়েন্টরা। কেউ বুঝতে পেরে প্রথম ধাক্কাতেই ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ না বুঝে ফাঁদে পড়ে সারাজীবন পস্তাচ্ছেন। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য তাদের রেটও আবার চড়া। বিয়ে হোক বা না হোক প্রাথমিক নিবন্ধনেই তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এরপর বিয়ের দিকে গড়ালে তো কথাই নেই! পদে পদে ধাপে ধাপে টাকা গুনতে হয় পাত্র-পাত্রীর পরিবারকে। ম্যারেজ মিডিয়াগুলো ঘুরে জানা গেছে, নিবন্ধনের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লায়েন্টদের আর্থিক অবস্থা বুঝে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেয়। এরপর বিয়ে দিতে পারলে আরও টাকা-পয়সা দাবি করে।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় রয়েছে কান্তা ম্যারেজ মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জাবিন সুলতানা কান্তা। তার বিরুদ্ধে এই ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন মেয়ে দিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে। এর আগে তিনি ভ‚য়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগেও গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়ার পরই তিনি লেবাস পরিবর্তন করে ভ‚য়া ম্যারেজ মিডিয়ার আড়ালে বিভিন্ন মেয়ে দিয়ে রাজধানীতে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বিভিন্ন নামিদামী এলাকা থেকে শুরু করে নিন্মবিত্ত এলাকায় রয়েছে তার এই সিন্ডিকেটের নারী সদস্যরা। রামপুরা বনশ্রী থেকে শুরু করে গুলশান, বারিধারা, উত্তরা, মহাখালী, শ্যামলী এলাকাসহ বেশ কিছু নারী সদস্যকে দিয়ে তিনি এ ব্যবসা করাচ্ছেন। উচ্চবিত্ত থেকে নিন্মবিত্ত মানুষের কাছে বিভিন্ন নারী দিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার বেশিরভাগ টার্গেট শিল্পপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ধর্নাট্য ব্যক্তিবর্গ।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকেও মেয়ে সাপ্লাই দিয়ে থাকেন জাবিন সুলতানা কান্তা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন তিনি সেই সরকারের লোকজনের সাথে সুস¤পর্ক গড়ে তুলে সেলফি বা ছবি তুলে সাধারন মানুষের মাঝে প্রচার করে নিজেকে রাজনৈতিক অঙ্গনের নেত্রী পরিচয় দিয়ে মেয়ে সাপ্লাই দেন। কোন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত তা তিনি নিজেও জানেন না। তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তিনি বিএনপির নেত্রী শ্যামা ওবায়েদ ও তার মায়ের কাছে যাতায়েত রয়েছে। এবং তিনি এর আগে বিএনপি জামায়েত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তাবে তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ। এ ব্যবসা করেই তিনি আজ কোটিপতি। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃদ মোবাইল ফোনে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

“কান্তা ম্যারেজ মিডিয়ার আড়ালে নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা” শিরোনামে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে সংবাদ প্রকাশ করার পর দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু কান্তা ম্যারেজ মিডিয়ার কর্ণধার জাবিন সুলতানা কান্তার কোন সমস্যা পড়তে হয়নি। বরং তিনি দেদরাচ্ছে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

এছাড়া তিনি উক্ত সংবাদের মৌখিক প্রতিবাদ করলেও লিখিত প্রতিবাদ দিতে রাজি নয়। উল্টো রামপুরা থানায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে তদন্ত চিত্রের সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করেন। অত্র জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই অলক গত ৩১ ডিসেম্বর সম্পাদকের ব্যবহৃত মোবাইলে কল করে জিডির বিষয় জানান এবং পরবর্তীতে রাতে আবার পুনরায় ফোন করে জাবিন সুলতানা কান্তার অপকর্ম নিয়ে আর কোন সংবাদ প্রকাশ না করতেও বলেন এসআই অলক।

জানা গেছে, রামপুরা থানার এসআই অলক কান্তা ম্যারেজ মিডিয়া থেকে সাপ্তাহিক পেমেন্ট পান। তাই এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে বলেন এসআই অলক। কান্তার অপকর্মের বিষয়ে কান্তা নিজেই স্বীকার করেছেন তার অধিনে ২০-২৫ টি মেয়ে এই ব্যবসা করে পরিবার চালাচ্ছে যার কল রেকর্ড আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। কান্তার অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা এসআই অলকের কথোপথনও সংরক্ষিত আছে। আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে, আরো বিস্তারিত আসছে।

আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির অর্থ-বাণিজ্যে রমরমা:
জেবিন সুলতানা কান্তার অফিসে বসে হয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দেয়া। কান্তার কথা মতই দেয়া হয়েছে ১২-১২ জনকে এ কমিটির সদস্য। তাও ৩-৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। আবার কান্তার কথায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে বহিস্কারও করা হয়েছে।

এ কমিটির সদস্য দেয়ার নামে গোলাম মওলা নকশী বন্দির বিরুদ্ধে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে অনেক দিন ধরেই। পদ বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতারা উপকমিটিতে স্থান পাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের এমন নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই সব উপেক্ষা করে ধর্ম উপ কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম মওলা নকশী বন্দি ও তার একান্ত সহযোগী ঢাউটখ্যাত এডভোকেট নামীয় আওয়ামী নেতা নামধারী সৈয়দ ওলিউর রহমান ওরফে “মিলন” ও জেবীন সুলতানা কান্তা। উল্লেখ্য এই জেবিন সুলতানা কান্তা ও ধর্ম উপ কমিটির সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটির আর তারাই সদস্য দেয়ার নামে অর্থ বাণিজ্য করছেন। প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে ১ লাখ, ২ লাখ, ও ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। উপ কমিটির প্যাড তৈরী করে নাম লিখে সদস্যদের নামে প্রত্যায়নপত্র দেন উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও তার পিএস রাজা মাহমুদ চৌধুরী ও মুজিবুর রহমান। এই ভাবে প্রায় শতাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয় পরিচয় পত্রও প্রদান করা হয়, যাহা আওয়ামী লীগের নিয়ম-নীতিতে নেই। ত্যাগী নেতারা স্থান পায়নি, ধর্ম উপ বিষয়ক কমিটির পদ পেয়েছে জামায়াত শিবির ও নামকরা মাদক ব্যবসয়ীরাও স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।