TadantaChitra.Com | logo

১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অপরাধীর সঙ্গে ক্রেষ্ট প্রদান, সমালোচনায় কাউন্সিলর নাছির

প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০২১, ০৮:৪৩

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অপরাধীর সঙ্গে ক্রেষ্ট প্রদান, সমালোচনায় কাউন্সিলর নাছির

প্রিয়া আক্তারঃ গত ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় “শুটার-চাঁদাবাজরাই নাছিরের ‘প্রিয়জন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে মহাখালীতে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় ঠিকাদার দিদার হোসেন সজীবকে। ওই ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে বিল্লাল নামের একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিল্লাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাছিরের সহযোগী। বিভিন্ন সময় কাউন্সিলর ও তার স্বজনের পাশে বিল্লালকে দেখা গেছে। এমন কিছু ছবি সমকালের কাছেও রয়েছে। এলাকার লোকজন গোপনে বলাবলি করেন, বিল্লালের মতো শুটাররাই কাউন্সিলরের ‘প্রিয় পাত্র’। তবে ভয়ে কেউ এ নিয়ে টুঁ শব্দও করেন না।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, কাউন্সিলরের সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তিগুলোর একটি সাততলা বস্তি রয়েছে এ এলাকায়। এই বস্তিতে অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন কাউন্সিলরের সহযোগীরা। অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি, গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসাও তাদের দখলে। এসব খাত থেকে আসা কোটি টাকার বড় অংশই যায় কাউন্সিলরের পকেটে। এমন বহু অভিযোগ নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে কয়েকটি লিখিত অভিযোগের তদন্ত ও ছায়াতদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। অভিযোগ, কাউন্সিলরের সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধে কথা বললেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি এক সাংবাদিককে বেধড়ক পেটায় তারা।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কাউন্সিলর মো. নাছির সমকালকে বলেন, বিল্লাল নামের কাউকে আমি চিনি না। আমার আশপাশে কখনও কোনো খারাপ লোকজন থাকতে দিই না। প্রতিপক্ষ আমার নামে অপপ্রচার চালায়। ঠিকাদারকে গুলির ঘটনায় জড়িতদের আমিই পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। বস্তিতে অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুতের পক্ষেও আমি নই। তাই বৈধ সংযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তবে তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবশ্য করোনার সুযোগে মাদক ব্যবসা কিছুটা বেড়েছে।

সমকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরে এলাকাবাসীর সমালোচনার মুখে পড়েন কাউন্সিলর মো. নাছির। যদিও প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা-বানোয়াট বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকা উওর সিটি কর্পোরেশন ২০নং ওয়ার্ডে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত কাউন্সিলর মো.নাছিরের এক বছর পূর্ন হওয়ায় মহাখালী দক্ষিণ পাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান হয়। সেখানে দেখা যায় সেই বিল্লালকে। এতে আবারও বিতর্কের জন্ম দিলেন কাউন্সিলর মো. নাছির।

গত  ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত সেই বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ফ্রুটেজ তদন্ত চিএের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায় কাউন্সিলর মো. নাছিরের সঙ্গে বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের হাতে সম্মালনা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন বিল্লাল। এ নিয়ে আবার সমালোচনা শুরু হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। কেউ কেউ বলেন, একজন অপরাধীর হাত থেকে সম্মাননা! এটা সম্মাননা নাকি অপমান? এই অনুষ্ঠানে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলরের আশপাশে সর্বদা সন্ত্রাসীদের আনাগোনা দেখা যায়। সমকালের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা যায়, হত্যাচেষ্টা মামলায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিল্লালের সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন কাউন্সিলর। তার স্ত্রীসহ অন্যান্য স্বজনের সঙ্গেও বিল্লালের বেশ কিছু ছবি রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠিকাদারি-সংক্রান্ত বিরোধে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মহাখালীতে দিদার হোসেন সজীবকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় কাউন্সিলরের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার তৎকালীন এসআই (বর্তমানে পল্লবী থানায় কর্মরত) মিল্টন দত্ত জানান, বিল্লাল ও দীপকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদেরসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়। অপর দু’জন হলো জাবেদ ও হাসিব।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, চাঁদাবাজি নিয়ে খবর প্রকাশ করায় ‘অপরাধ বিচিত্রা’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক হাবিব সরকার স্বাধীনকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে নাছিরের সহযোগী চক্র। স্বাধীন জানান, মহাখালীর একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে তাকে ঘিরে ধরে কাউন্সিলরের লোকজন। তাকে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। এতে আপত্তি জানালে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে মহাখালীর টিবি গেট এলাকার কমিউনিটি সেন্টারের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টাও চলে। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ প্রসঙ্গে আতর আলী দাবি করেন, সাংবাদিক স্বাধীনের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি খবর প্রকাশ-সংক্রান্ত নয়। তিনি বস্তির বিভিন্ন খাত থেকে টাকা নেন। সেসব আর্থিক বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলরও একই মত ব্যক্ত করেন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।