TadantaChitra.Com | logo

১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভয়ঙ্কর ভাড়াটিয়া!

প্রকাশিত : এপ্রিল ০২, ২০২১, ০৯:১২

ভয়ঙ্কর ভাড়াটিয়া!

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতারণার মাধ্যমে জমি ভাড়া নিয়ে উল্টো জমির মালিকের বিরুদ্ধে হয়রাণিমূলক মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে অবিভক্ত টঙ্গির পূবাইল থানাধীন বসুগাওয়ের তালটিয়া এলাকার জসিম উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে সে টঙ্গি স্টেশন রোড এলাকায় ভাড়া থাকেন। জসিমের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তুরাগ এলাকা ভাটুলিয়ার অন্তত ১০জন ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। লাভের জন্য জমি ভাড়া দিয়ে উল্টো মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে ভূক্তভোগীদের। ঢাকা এবং টঙ্গির ঠিকানা দিয়ে চুক্তিপত্র; অত:পর টালবাহানা, এরপর মামলা। এই তার প্রতারণার কৌশল। জমির মালিককে ভাড়া না দিয়েই ব্যবসা করেন তিনি। ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেন। এরপর মামলা দিয়ে হয়রাণি করেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

জসিম উদ্দীনের হয়রাণির শিকার ভূক্তভোগীদের একজন উত্তরার তুরাগ ভাটুলিয়াএলাকার স্থায়ী বাসিন্দা অধ্যক্ষ মু: মুজাম্মেল হক জানান, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তাদের কাছ থেকে ৩৮.২৫ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়েছিল জসিম উদ্দিন। ভাড়া না দিয়েই বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছে। গত মাস পর্যন্ত (ফেব্রুয়ারি) ভাড়া বকেয়া ১৯ লক্ষ বিশ হাজার টাকা। দেই দেবো বলে ভাড়া জমা করে। এরপর ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। বর্তমানে জসিম উদ্দীনের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানালেন জমির মালিক মু. মুজাম্মেল হক। এ ব্যাপারে জীবনের নিরাপত্তা ও জমি উদ্ধার চেয়ে থানায় জিডি করেছিলেন জমির মালিক।

সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবির মাধ্যমে বকেয়া ভাড়া আদায় ও ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো পাওনাদারের বিরুদ্ধে ২৭.০১.২০২১ তারিখে মামলা করে জসিম। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) তদন্ত করছে।

একইভাবে প্রতারক জসিমের মামলার শিকার হয়েছেন তুরাগের নয়ানিচালা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো. মন্তাজ উদ্দীনের ছেলে আরাফাত আলী নামের আরেক জমির মালিক। তিনিও তুরাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তার নামেও ২৭.০১.২০২১ তারিখে মামলা করে জসিম।

ভূক্তভোগীরা বলছেন,জমি ভাড়া নেওয়ার সময় চুক্তিপত্রে তার আসল ঠিকানা গোপন রাখে। যখন যে এলাকায় জমি ভাড়া নেয় সংশ্লিষ্ট এলাকার ঠিকানা তার নিজের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করে। যা অনেকে প্রথম হঠাৎ করে বুঝতেই পারে না। সে কখনো উত্তরা ওয়ার্কসপ পল্লী সমবায় সমিতির পক্ষে আবার কখনো জসিম ওয়ার্কসপ পল্লীর পক্ষে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে জমি ভাড়া নেয়। সে জমি ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্রে জমির উত্তর-দক্ষিন এবং পূর্ব- পশ্চিম অর্থাৎ চার পাশের চৌহদ্দী যখন উল্লেখ করে তখন জমির সম্মুখ ভাগে রাস্তার পাশে যে অংশটুকু সরকারী জমি থাকে তা কৌশলে মাটি বা বালি ভরাট কাজের মাপের সুবিধার কথা বলে সম্মুখ ভাগের অংশটুকু চুক্তিপত্রে অন্তর্ভূক্ত করে জমির মালিককে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি গোপন ইস্যু প্রস্তুত রেখে দেই, দিচ্ছি দিবো ইত্যাদি মিথ্যা আশ্বাস ও টালবাহানাসহ নানান সম্যার কথা বলে ভাড়া আটকে রাখে যাতে ভাড়া আর না দেয়া লাগে। পরে জমি মালিকের বিরুদ্ধে এই মর্মে মামলা করে যে, তারা জাল কাগজপত্র তৈরী করে আমার নিকট সরকারী জমি ভাড়া দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের কাছে জায়গা ভাড়া দিয়ে আরও হয়রাণির শিকার হয়েছেন, একই এলাকার সার্ভেয়ার এমদাদুল হক কামাল, এনামুল হক, নূরুল আমিন, এম এ বারিক, মুঃ আব্দুর রশিদসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে মোঃ হারুন, মোঃ জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে জসিমের কাছ থেকে সাবলেট ভাড়া নিয়ে হয়রাণির শিকার হয়েছেন। এবং তাদের নগদ প্রদাকৃত জামানতের ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেই দিচ্ছি বলে এখনো পরিশোধ করেনি। জমির মালিক এনামুল হক জানান, তুরাগ এলাকার মানুষের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে জসিম উদ্দিন প্রতরণার আশ্রয় নিচ্ছে। জমি ভাড়া নেয়ার পর থেকেই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সহজসরল মানুষের সঙ্গে ভয়ঙ্কর আচরণ করে যাচ্ছে। আমরা জসিমের কাছে টাকা পাবো। সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে টাকা আদায় করার চেষ্টা করেছি। থানায় জিডি করেছি, লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি। অথচ জসিম আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার অভিযোগগুলোও শতভাগ মিথ্যা।

তিনি আরও জানান, আমাদের সাথে ভাড়াটিয়া জসিম উদ্দীনের যে চুক্তিপত্র রয়েছে এবং ৭ নম্বর ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে উক্ত খালি জমিতে ব্যবসা করিতে কোন প্রকার আর্থিক ঝামেলা হলে তা ভাড়াটিয়া বা দ্বিতীয় পক্ষ বহন করিবে। এবং ১১ নং শর্তে রয়েছে দ্বিতীয় পক্ষের যে পরিমাণ টাকা প্রথম পক্ষের নিকট জামানত হিসেবে গণ্য থাকবে। অবশ্যই সেই পরিমাণ টাকার চেয়ে অধিক পরিমান টাকা দ্বিতীয় পক্ষ সাবলেট ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে না। অতএব ভাড়টিয়া দ্বিতীয় পক্ষ প্রথম পক্ষ মোজাম্মেল হক গংদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করে কোন যুক্তিতে।

জসীম উদ্দীনের কাছে জমি ভাড়া দিয়ে ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন আরাফাত আলী নামের আরেক বাসিন্দা। তিনি জানালেন, ব্যবসা বাণিজ্য ফেলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে দৌড়ঝাপ করে সমাধানের পথ খোঁজছেন। এসব ঘটনার জন্য জসিম উদ্দিনের নাম দিয়েছেন ভয়ঙ্কর ভাড়াটিয়া। দিন যতই যাচ্ছে জসিম উদ্দিনের মামলার সংখ্যাও বাড়ছে। বাড়ছে ভূক্তভোগীর সংখ্যা।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।