TadantaChitra.Com | logo

১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৩, ২০২১, ১৬:০৪

নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা : জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান গত ১০বছর যাবত এ উপজেলায় চাকুরী করে একজন ভাগ্যবান কর্মকর্তা হিসেবে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান। তার বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নিজ এলাকার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন প্রকল্প  ও  ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়া, যুব উন্নয়নের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে তার পরিবারের অন্তত ১০জন সদস্যসহ অনেক ভুয়া নাম দেখিয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার নামে দুই বছরে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতসহ রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান গত ১০ বছর যাবত নাঙ্গলকোট উপজেলায় কর্মরত থেকে  প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মুখরোচক আলোচনার ঝড় বইছে। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, একজন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বেতন কত? তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করার পর যে টাকা থাকে তা  দিয়ে গত প্রায় ১০ বছরে গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ি, নাঙ্গলকোট পৌর সদরের সম্পত্তির মালিকসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পত্তিসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন গুরপাক খাচ্ছে। তার বিশাল সম্পত্তির উৎস বের করতে গিয়ে গত প্রায় ১০ বছরে নাঙ্গলকোটে অবস্থানকালে দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। এটা এখন নাঙ্গলকোট উপজেলা এবং তার নিজ এলাকা দৌলখাঁড়সহ সর্বত্র টক অব দ্যা নাঙ্গলকোটে পরিণত হয়েছে।

উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের দৌলখাঁড় গ্রামের মাস্টার নামে খ্যাত মরহুম আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি ২০১০ সালের ২৫ আগষ্ট নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে যোগদানের পর থেকে তার ভাগ্য বদলাতে থাকে। নিজের ভাইয়ের নামে নিকাহ রেজিস্টার, ত্রাণ অধিদপ্তরের ঘর করে দেয়ার নামে টাকা হরিলুট, সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গুলোতে তার সংশ্লিষ্টতায় সম্পন্ন হয়ে আসছে। তাছাড়া দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের খুব আস্থাভাজন লোক হিসেবে জাতীয় অনুষ্ঠান গুলোর টাকা কালেকশন ও কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি, বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের অধিকাংশ তদন্তভার গ্রহণ, স্কুল কলেজ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের দায়িত্ব পালনসহ উপজেলার প্রশাসনিক পর্যায়ে সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করে আসছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে তুই-তোকারি করে দুর্ব্যবহার এবং ন্যাশনাল সার্ভিসে কর্মরত যুবক/যুব মহিলাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহারসহ যুব মহিলাদের জোরপূর্বক অনৈতিককাজে জড়িত হতে বাধ্য করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৪ অনুচ্ছেদে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত ২৪-৩৫ বছর বয়সী বেকার যুবক/যুবমহিলাদের অস্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের বিষয়ে যুব সমাজকে দুই বছরের জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস এ নিযুক্ত করার জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী সম্পাদিত হয়।

২০১৮ সালের প্রথমদিকে নাঙ্গলকোটে ৭শ২১ জন বেকার যুবক/ যুব মহিলাকে এ কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কর্মসূচী শেষ হয়। নির্বাচিত সুবিধাভোগী যুবক/যুবমহিলাকে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে দৈনিক ১০০/-টাকা হরে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান এবং প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুই বছর মেয়াদে সংযুক্তি প্রদানের কথা রয়েছে। সংযুক্তি প্রাপ্তির পর তাদেরকে কাজ করার জন্য দৈনিক ২০০/-হারে মাসিক ৬০০০/-টাকা পারিশ্রমিক প্রদানের নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে ২০০০/-টাকা মাসিক সঞ্চয় হিসেবে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর নিজ নামে ব্যাংকে গচ্ছিত রেখে এবং অস্থায়ীভাবে সংযুক্তি শেষে সুদসহ এ অর্থ ফেরত দেয়ার কথা রয়েছে।
২০১৮ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী (৭ম পর্ব) উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার জন্য আর্শিবাদ হয়ে আসে।

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে বিভিন্নভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে দৌলখাঁড় ইউনিয়নের দৌলখাঁড় গ্রামের বাইন্না বাড়িতে প্রায় ৬০লাখ টাকা ব্যয়ে আলিশান বাড়ি নির্মাণ, নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের সাব পোস্ট অফিসের উত্তর পাশে নিজ নামে সম্পত্তিসহ বিভিন্নস্থানে নামে-বেনামে নগদ টাকাসহ অনেক সম্পত্তি রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রতিমাসে ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও প্রতিবছর নামমাত্র ২/১টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে কাগজে-কলমে ভূয়া প্রশিক্ষণার্থীদের নাম দেখিয়ে গত প্রায় ১০বছরে প্রশিক্ষণ খাতে সরকারের বরাদ্ধ প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। ২/১টি রাজস্ব প্রশিক্ষণ করে অবশিষ্ট প্রশিক্ষণ না করে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন। জোরদারকরণ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ প্রদান না করে সকল প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন। বিশেষ করে ২০১০, ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান না করে সকল প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে প্রথম দফায় প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের মধ্যে যারা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন নাই তাদেরকে হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখিয়ে তাদের নামে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলন করেন।

এছাড়া, প্রশিক্ষণার্থীরা যতদিন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে ততদিনের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা প্রাদান করা হয়। অথচ অবশিষ্ট টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও তা ফেরৎ না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজের পরিবারের সদস্যসহ অনেক ভুয়া নাম দেখিয়ে লাখ-লাখ টাকা হরিলুট করার অভিযোগ উঠেছে।

নিজের স্ত্রী, প্রবাসে অবস্থানরত দুই ভাই, অন্য এক ভাই, ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী, খালাতো বোন, দুইজন আত্মীয়সহ তার পরিবারের দশজন সদস্য কোন কাজ না করেই প্রশিক্ষণ ভাতা এবং কর্মভাতার বিল গ্রহণ করেন। এছাড়া অনেকের নাম কাগজে-কলমে থাকলেও তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার উত্তোলনের বিষয়টি তারা মোটেই জানেন না।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের তিন কক্ষে মোট ২৫জনের সংযুক্তি দেখিয়ে তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্ম ভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়। অন্যদিকে ২৪ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক/যুব মহিলাদের এ কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও ২০ বছর থেকে ২২ বছর ও ৩৮- ৩৯ বছর বয়সীদেরও এ কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদের শাহজাহানের ভাই আক্তার হোসাইন, ন্যশনাল সার্ভিসের ক্রমিক নং- ৬৪৫, সাখাওয়াত হোসেন (৫৮৬)। তারা প্রবাসে অবস্থান করলেও তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়। তার স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে (৬৪৮) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্ত দেখালেও সে কোনদিন অফিসে আসেনি। তার অপর ভাই ইকবাল হোসেন, (৬৫৭)। তাকেও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তার দুই ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার(৬২২), দৌলখাঁড় পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তাহমিনা আক্তার (৬৩২), উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। খালাতো বোন ফাহিমা আক্তার (৪৮৬), গোহারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তার দুই আত্মীয়  এ এস এম সাখাওয়াত হোসেন (৬৫৫) এবং মুনিয়া লতিফ (৬৫৬), তাদেরকে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে।

তারা ঢাকায় অবস্থান করেন। অন্য এক আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুন (৬৬২)। সে বক্সগঞ্জ বাজারে মুরগীর ব্যবসা করে। তাকে আটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়। তিন ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৫৭), নুরুল আলম (৫৬১), শফিউল আলম (৫৬২)। তাদেরকে আল জামেয়াতুল আরাবিয়ান আল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সংযুক্ত দেখানো হয়েছে। তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার টাকা উত্তোলন করা হলেও তারা এব্যাপারে কিছুই জানেন না।

তিন বোন খাতুনে জান্নাত তন্নি (৫৪১), উম্মে জহুরা (৫৪২) ও উম্মে ছায়মা (৫৪৩)। তাদেরকে আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে সংযুক্তি দেখালেও তারা ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে টাকা ভাগাভাগি করে তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতা উত্তোলন করা হয়। ইসমত আরা ভুঁইয়া (৬১৮)। শ্রীহাস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। সে স্বামীর সাথে স্থায়ীভাবে ঢাকা অবস্থান করে।

রোমানা আক্তার নুপুর (৬১৯)। কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়। সে স্বামীর সাথে কুমিল্লায় অবস্থান করে। ফারজানা ইয়াসমিন (৬৭৮)। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়। অথচ সে ঢাকায় অবস্থান করে । কাজী আবদুল্লা আল মাসহুদ (৬৯৯)। সে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রুপসী বাংলা কলেজে স্থায়ীভাবে চাকুরি করেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে ভাগাভাগি করে টাকা উত্তোলন করেন। শারমীন সুলতানা (৫১২)। উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়। সে কখনো অফিসে না এসে টাকা উত্তোলন করেছেন। সাহাব উদ্দিন (৫৭৬)। সে মন্নারা বাজারের পল্লী চিকিৎসক। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্তি দেখানো হয়। মেহজাবিন আক্তার (২৮৭)। সে চাঁদপুরে অবস্থান করেন। সুমন চন্দ্র দাস (৭৭)। সে প্রাণ কোম্পানীতে চাকুরী করে। ইয়াছিন মিয়া (৯০)। আবুল খায়ের কোম্পানীর চট্রগ্রামের সিমেন্ট কারখানায় চাকুরী করে। সাইফুল ইসলাম (৬৭৭)। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্ত দেখানো হলেও সে কখনো অফিসে আসেনি। তার নামেও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ত্রাণ অধিদপ্তরের এক লাখ টাকা ব্যয়ের ঘর নির্মাণ কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বজনপ্রীতি করে নিজ বাড়িতে সাত জনের নামে ঘর বরাদ্ধ করাসহ অনেক টাকা লাভবান হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ পায়। নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্ধ দেয়া ঘর মালিকরা হচ্ছে জেঠাতো ভাই (বিএনপির ডোনার হিসাবে খ্যাত) ওসমান, জেঠাতো বোন সামছুন নাহার, মাজেদা খাতুন, কদর বানু, হাজেরা খাতুন, জেঠাতো ভাই আলম ও আবদুল মমিন।

তাছাড়া নিজের আর্থিক সুবিধার জন্য এলজিইডির অধীনে পাকা রাস্তার প্রকল্প তৈরী করে এলাকার জনগুরুত্বহীন রাস্তা আইটপাড়া থেকে মমিন চেয়ারম্যান ও তার বাড়ির সামনে দিয়ে একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ ভাগিয়ে নেন। ওই সড়ক নির্মাণে নিজেই ঠিকাদারী করেন। সড়কটির উন্নয়ন বরাদ্ধ ছিল ৭৫ লাখ টাকা।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে কর্মরত তিন ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন, নুরুল আলম ও শফিউল আলমের নামে টাকা উত্তোলন করা হলেও আবদুল্লাহ আল মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি তিনমাসের টাকা গ্রহণ করি। পরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তার সাথে অর্ধেক টাকা ভাগাভাগির কথা বললে আমি রাজি হয় নাই। সে আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। অবশিষ্ট ২১ মাসের টাকা কে বা কারা নিয়েছে আমি জানি না।

এছাড়া আমার অপর দুই ভাই নুরুল আলম ও শফিউল আলম কোন টাকা পান নাই। এছাড়া তিন বোনের মধ্যে খাতুনে জান্নাত তন্নি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারি নাই। কিন্তু টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে  ম্যানেজ করার সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অফিসে গিয়ে দেখা করার কথা বলে লাইন কেটে দেয়। এরপর একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।