TadantaChitra.Com | logo

২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নাঙ্গলকোটে ড্রেজার দিয়ে সরকারি দিঘি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বালু উত্তোলন

প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০২১, ১৭:৫৫

নাঙ্গলকোটে ড্রেজার দিয়ে সরকারি দিঘি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বালু উত্তোলন

কুমিল্লা প্রতিনিধি : ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ সংলগ্ন নাঙ্গলকোট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের গোত্রশাল সরকারি দিঘি থেকে প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে উপজেলা চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালুর বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে । উপজেলা চেয়ারম্যানের বালু উত্তোলনে প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে বাধা দিলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতার কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। ফলে এখন রাতের আঁধারে চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন। জলমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও উপজেলা চেয়ারম্যান সরকারি নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা করছেন না।

সম্প্রতি নাঙ্গলকোটে একটি মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান পুকুর, দিঘি এবং কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে তা কোনভাবেই কার্যকর হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালু গোত্রশাল সরকারি দিঘি থেকে বালু উত্তোলন করে তিনি তার বাড়ির আশে পাশের একাধিক পুকুর, ডোবা ভরাট করছে । ইতিপূর্বে তিনি উক্ত পুকুর ও ডোবায় মাছ চাষ করতেন । এখন দৃষ্টি নন্দন বাড়ির সৌন্দর্য আরও দৃষ্টি নন্দন করতে এগুলো ভরাট করছেন ।

ওই দিঘিটির পাশ দিয়ে ১৮৩৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রামের নির্ভরযোগ্য একমাত্র রেল পথটি নির্মিত হয়। কিন্তু দিঘির বালু উত্তোলনের ফলে তার তীর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে এ রেললাইন । এমন আশংকা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় একাধিক মানুষ ।

এছাড়া দিঘির পাশে রয়েছে কুমিল্লা জাঙ্গালিয়া থেকে ৩৩ হাজার ক্ষমতা সম্পন্ন ফেনী গ্রীডে সংযুক্ত বিদ্যুৎ লাইনটি। ইতোপূর্বে এ গ্রীড লাইনটি দিঘিতে হেলে পড়লে এ এলাকায় প্রায় এক মাস বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। দিঘি থেকে বালু উত্তোরনের ফলে বিদ্যুতের খুঁটিটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে দিঘির চতুর্দিকের বাড়িগুলো আরও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে । সকল রকম ঝুঁকি ও আশংকা উপেক্ষা করে উপজেলার শীর্ষ এ জনপ্রতিনিধি নিজের স্বার্থটা বড় করে দেখছেন বলে স্থানীয় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপেক্ষা ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত দুই বছর পূর্বেও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার স্বার্থন্বেষী একটি গোষ্ঠী ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গোত্রশাল দিঘি থেকে দীর্ঘ প্রায় ২ মাস অবাধে বালু উত্তোলন করেন। ওই উত্তোলনকৃত বালু গোত্রশালসহ পাশ্ববর্তী মান্দ্রা, কেন্দ্রা গ্রামের বিভিন্নস্থানে খালি জায়গা ভরাট করা হয়। পরে ওই বালু প্রায় কয়েককোটি টাকায় বিক্রি করে নিজেরা লাভবান হন।

ওই সময় এনিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা ড্রেজার মেশিন জব্দ করে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ, দিঘির চুতুর্দিকের বাড়িঘর এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি দিঘিতে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা শীঘ্রই  বালু উত্তোলনের বন্ধে প্রশাসনের উধ্বতর্ন কর্তৃর্পক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, রেলপথের পূর্বাংশের মাটি কিছুটা ঝুঁকে পড়েছে। বিষয়টি পূর্বাঞ্চল রেল বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

এবিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।