দুদকে যাচ্ছে অভিযোগ, সাভারে ইউপি কর্মচারী বারেকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ

লেখক: সাব এডিটর
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

মীর আব্দুল বারেক বর্তমানে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ১৪তম গ্রেডের একজন সাধারণ কর্মচারী তিনি। বিগত দিনে ছিলেন ছাত্র হত্যাকারী ফখরুল আলম সমরের একনিষ্ঠ কর্মী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ফখরুল আলম সমর ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাভারের তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের  ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ থাকাকালীন প্রকাশ্যেই আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ‘ইউপি সচিব’ পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সাভারের মোঃ বাবু নামের এক ব্যক্তি দুদকের কাছে তদন্ত দাবী জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ জানাবেন তিনি। জানা যায়, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন, কিনেছেন ফ্ল্যাট। তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বদলি হলেও সেখানে এখনো বজায় রেখেছেন নিজের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।

গত কয়েক সপ্তাহের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৩ বছর সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন মীর আব্দুল বারেক। সমরের রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে ইউনিয়ন পরিষদে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন বারেক। সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার নামে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক বনে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ১৪তম গ্রেডের কর্মচারীর সরকারি বেতন দিয়ে যেখানে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন, সেখানে মীর আব্দুল বারেক গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। তেঁতুলঝোড়া এলাকায় শাপলা হাউজিংয়ের ভেতরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে অবৈধভাবে, কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করেছেন একটি চোখ ধাঁধানো ৫তলা রাজকীয় ভবন। এছাড়া ঢাকার অভিজাত এলাকা কল্যাণপুরেও তার নামে রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। সাধারণ একজন সরকারি কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিভিন্ন নিয়ম ও প্রশাসনিক কারণে মীর আব্দুর বারেককে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর সেবা না দিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে অন্যান্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে উচ্চ মহলে অবহিত করে তাকে সরিয়ে দেন। পরে ১৩ নং কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে যোগ দেন।

এ ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী মো. সেলিম হোসেন বলেন, আমাদের এই ইউনিয়ন পরিষদে যে কয় মাস ছিল, সব সময় তাকে আতঙ্কিত মনে হতো। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। তবে এই ইউনিয়ন পরিষদে সুবিধা করতে না পেরে তিনি পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে বদলি হন।

প্রশাসনিক পদমর্যাদা পরিবর্তনের পর তার বর্তমান পদবি ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ হলেও তিনি এখনো নিজেকে ‘সচিব’ পরিচয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। এমনকি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে এলেও সেখানে এখনো তার তৈরি করা সিন্ডিকেট ও প্রভাব বজায় রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বারেকের আয়ের উৎস সরকারি চাকরি হলেও তার জীবনযাপন ও সম্পদের পরিমাণ কোনো বড় শিল্পপতির চেয়ে কম নয়। রাজনৈতিক (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতার দাপটে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।

আব্দুল বারেকের বিষয়ে তথ্য চেয়ে সম্প্রতি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য অধিকার আইনে একটি আবেদন করা হয়। তবে আবেদনের জবাব এখনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া না গেলেও বারেকের বহুতল ভবনের অনুমোদন ইউনিয়ন পরিষদের নথিতে নেই বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

১৪তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস কী, কীভাবে রাজউক কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন ছাড়া হাউজিং সোসাইটির ভেতর বহুতল ভবন নির্মিত হলো তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগের বিষয়ে মীর আব্দুল বারেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করলেও বহুতল ভবন অনুমোদনের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি তার আয়ের প্রকৃত উৎস’র ব্যাপারেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

  • অনিয়মের অভিযোগ
  • ইউনিয়ন পরিষদ
  • তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন
  • দুদক তদন্ত
  • দুর্নীতি অভিযোগ
  • পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ
  • প্রশাসনিক কর্মকর্তা
  • প্রশাসনিক প্রভাব
  • মীর আব্দুল বারেক
  • সাভার
  • স্থানীয় সরকার