শাপলা চত্বর মামলায় হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৩০ আসামির খোঁজ মেলেনি

লেখক: সাব এডিটর
প্রকাশ: ১৮ ঘন্টা আগে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়েও কাউকে না পাওয়ায় এ বিষয়ে নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

৩০ আসামির সন্ধান মেলেনি

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বিষয়ে এনইআর দাখিল করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য সময়ও চান প্রসিকিউশন।

শুনানি শেষে আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে হাজির ১০ আসামি

এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।

সাংবাদিক ফারজানা রুপাও এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন। তবে অসুস্থতার কারণে এদিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

পলাতক আসামিদের তালিকায় যারা

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী ও সালাউদ্দিন মাহমুদ।

এ ছাড়া রয়েছেন ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।

তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন ও আশরাফুজ্জামান, এডিসি এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলী।

আগের শুনানিতে সময় চেয়েছিল প্রসিকিউশন

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিষয়ে এনইআর না আসায় প্রসিকিউশন সময় চায়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাবন্দি আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...