সন্ধ্যা থেকেই স্বস্তি ফিরবে বিদ্যুৎ সরবরাহে: প্রতিমন্ত্রী

লেখক: সাব এডিটর
প্রকাশ: ২ minutes ago

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিছুটা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ এবং আরেকটি টার্মিনাল দুর্ঘটনার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না থাকায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে এবং লোডশেডিংও কমে আসবে।

তবে পুরো জ্বালানি সংকট কবে নাগাদ সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশীয়ভাবে জ্বালানি উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমান সংকটের জন্য আগের আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নীতিকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সময়ের ভুল নীতির কারণে দেশে এ ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল।

তিনি বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চান।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...