TadantaChitra.Com | logo

৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজউকের ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ…!

প্রকাশিত : অক্টোবর ১১, ২০২১, ১৭:৩৭

রাজউকের ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ…!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৬ এর সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ইমারতের নকশা অনুমোদন ও বদলির জন্য ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দফায় ঘুস নিয়েও তিনি কাজ করছেন না। উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ভ্রমণ ও অফিসে অনুপস্থিতির জন্য বিভাগীয় মামলাও হয়েছে।

জানা যায়, পূর্ব রামপুরার ব্যবসায়ী জুবায়ের হোসেন পাঁচ কাঠার প্লটে ভবন নির্মাণের জন্য নকশার আবেদন করেন। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিন ধাপে জুবায়ের হোসেনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন তিনি। তবে টাকা নেওয়ার পর কাজ না করে উল্টো লোকজন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে বদলির জন্য বিল্ডিং ইন্সপেক্টরদের কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরিয়া ট্রান্সফারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। যারা এই টাকা দিতে পারেন তাদের বদলি পছন্দমতো জায়গায় হলেও অন্যরা টাকা না দেওয়ায় তা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জুবায়ের হোসেন বলেন, পূর্ব রামপুরায় আমার একটি প্লট আছে। সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য নকশা করতে আবেদন করেছিলাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট অথরাইজড মো. ইলিয়াসের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় বরিশালের এক লোকের মাধ্যমে। তিনি আমাকে বলেছিলেন সহযোগিতা করবেন। প্রথমে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন। পরে করোনার কথা বলে নেন আরও তিন লাখ।

‘এরপর আমাকে নকশাসহ সব ফাইল কমপ্লিট করে দেবেন বলে আরও দুই লাখ টাকা নেন। সব মিলিয়ে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো ফাইল দেননি। কোনো নম্বরও দেননি, আমার ফোন রিসিভ করেন না। অফিসে গিয়ে দেখা করতে চাইলে তার কিছু লোকজন দিয়ে হুমকি-ধমকি দেন। এর আগে রাজউকের অফিসে বসেই কথা বলতাম আমরা।’

তিনি বলেন, তিন কিস্তিতে মোট ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর তিনি লকডাউনের পর তাদের অফিস শুরু হচ্ছে বলে জানান। অফিস শুরু হলে ফাইল দেবেন। দু’মাস আগেও দেখা করতে গিয়েছিলাম। তখনও হুমকি-ধমকি দেয় তার লোকজন। বলে আমার ফাইল হবে না, আমাকে পুলিশে দেবে। যার মাধ্যমে ইলিয়াস সাহেবের সঙ্গে পরিচয় সেই লোকটিও এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রথম পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সময় তিনি আমার সঙ্গেই ছিলেন।

কাগজপত্র ঠিক থাকলে ১০ লাখ টাকা ঘুস দেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন প্রশ্নে তিনি বলেন, মূলত এক মাসের মধ্যে নকশা অনুমোদন, ছাড়পত্র, ডিজাইন ড্রয়িং করে দেবেন বলে আমি তাকে টাকাটা দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউক জোন-৬ এর একজন বিল্ডিং ইন্সপেক্টর বলেন, এরিয়া ট্রান্সফারের জন্য আমার কাছে তিনি (ইলিয়াস) টাকা চেয়েছিলেন, কিন্তু দেওয়া হয়নি। আমরা তিন-চারজন কলিগ আছি, ওনার হাতে তো ট্রান্সফারসহ অনেক কিছুই নির্ভর করে। তো এজন্য একটা অ্যামাউন্ট ডিমান্ড করেছিলেন। যারা টাকা দিয়েছেন তাদের ভালো এরিয়াগুলো দিয়েছেন। আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। ওনার আগে থেকেই এ ধরনের একটু সমস্যা আছে। আমি জেদের বশেই টাকাটা দিতে চাইনি। আমি এখন জোন-৬ এর ১ এ আছি। আমি জোন-৬ এর ২ অথবা ৩ এ ট্রান্সফার হতে চেয়েছিলাম।

অভিযোগ অবহিত করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ভুক্তভোগীকে বলেন অভিযোগসহ আমার কাছে আসতে, তিনি কেন কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে ১০ লাখ টাকা তাকে (ইলিয়াস) ঘুস দিলেন। ঘটনার সত্যতা পেলে আমি তাকে (ইলিয়াস) সাসপেন্ড করবো। আরেকটি বিষয় হলো সহকারী অথরাইজড অফিসারের কাউকে বদলির এখতিয়ার নেই। তবুও আমি তাদের ডাকবো, এগুলো তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নেওয়া দরকার।

এর আগে ২০১৮ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিন বছর বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জন্য আবেদন করেন ইলিয়াস। কিন্তু ছুটি মঞ্জুরের আগেই তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও জবাব দেননি। পরে ছুটি মঞ্জুর না হওয়ার খবরে তিনি তিন মাস পর কর্মস্থলে যোগ দেন। এ বিষয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে তিনি অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়া যান এবং দুই মাস দুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। পরে এ ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

নকশার জন্য ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজউক জোন-৬ এর সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস বলেন, এ ধরনের কাউকে আমি চিনি না, আমার সঙ্গে এ ধরনের কোনো কথাই হয়নি। আপনাকে কেউ মিস গাইড করেছে। এ ধরনের কিছু হয়নি।

বদলির জন্য বিল্ডিং ইন্সপেক্টরদের কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিল্ডিং ইন্সপেক্টরদের বদলির দায়িত্ব প্রশাসনের হাতে, আর রাজউকের জোনাল ডাইরেক্টরের হাতে আমার হাতে নয়। কারও তদবির করি না, এগুলো মানুষের মনগড়া কথা। বিভাগীয় মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার এসব বিষয় জানার দরকার নেই, যতটুকু জেনেছেন এনাফ।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।